OrdinaryITPostAd

জাম খাবার উপকারিতা - জাম খাবার নিয়ম ও সময়

আপনি যদি জাম সম্পর্কে জানতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য আপনি যদি আর্টিকেলটি সম্পন্ন করেন তাহলে জাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন বলে আমি মনে করি।


পোস্ট সূচিপত্র - জাম খাবার উপকারিতা - জামের পুষ্টিগুণ

  • জাম খাবার উপকারিতা
  • জামের পুষ্টিগুণ
  • জান কত টাকা কেজি

জাম খাবার উপকারিতা -


জাম হলো গ্রীষ্মকালীন একটি ফল। জাম ফলটি ছোট হলেও খেতে খুবই সুস্বাদু। আমাদের এ প্রিয় বাংলাদেশ নানান ফলে ভরা। আমাদের বাংলাদেশ অন্যান্য সব পুষ্টিকর ফলের মধ্যে জাম অন্যতম। অন্যান্য সব ফলের থেকে জামের স্থায়ীকাল কম হলেও অন্য সব ফলের থেকে জামে রয়েছে নামান পুষ্টিগুণ। বাংলাদেশ ছাড়াও যে যে দেশের জ্যাম পাওয়া যায় সে দেশগুলো হল - পাকিস্তান ভারত, আমেরিকা,শ্রীলঙ্কা,থাইল্যান্ড,ইন্দোনেশিয়া,মায়ানমার,অস্ট্রেলিয়া,কানাডা ইত্যাদি।

তাছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলাতে এ ফল চাষ করা হয় যেমন নওগাঁ,রংপুর,চট্টগ্রাম ,কক্সবাজার,লক্ষীপুর,গাইবান্ধ ,চাপাই নবাবগঞ্জ,সিরাজগঞ্জ,চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ, বরিশাল, কুমিল্লা,ফেনী,নোয়াখালী,বগুড়া,দিনাজপুর,পঞ্চগড়,সিলেট,ঢাকা,ফরিদপুর,টাঙ্গাইল,খুলনা,বাগেরহাট,যশোর, নারায়ণগঞ্জ,মেহেরপুর,কুষ্টিয়া,ময়মনসিংহ ইত্যাদি।চলুন বন্ধুরা জেনে আসি জাম খাওয়ার কিছু উপকারিতা -

হজমে সাহায্য করে - খাবার হজম করতে জাম অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। জাম পেটের যাবতীয় সমস্যা মোকাবেলা করে। জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফাইবার। এটি পেটের হজমের উন্নতি ও  সকল অন্তের গতিবেধি নিয়ন্ত্রণ করএ। জাম আমাদের শরীরের পেট ফাঁপা হওয়া যত সমস্যা এই সব সমস্যাথেকে মুক্তি দিতে পারি। আপনাদের মধ্যে যদি কারো পেটের সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে প্রতিদিন জাম খেতে পারে এতে পেটের যাবতীয় সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

মুখের রক্তক্ষরণ - মুখের রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় প্রতিদিন জাম খেলে। জাম মুখের রক্ত প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করে। জাম খেলে জামে রস আমাদের মুখে সাধারণত মাউথ ওয়াশ বা টুথপেস্ট এর মত কাজ করে। প্রচুর পরিমাণে এন্টি ব্যাকটেরিয়া উপাদান যা আমাদের মুখের  উন্নতি করতে সাহায্য করে।জাম খেলে আমাদের দাঁত মজবুত থাকে আগের থেকে অনেক ভালো। জাম আমাদের দাঁতে কিবেটি  বা ব্যাকটেরিয়া হতে দেয় না।

ওজন কমায় - জাম আমাদের শরীরের ওজন কমাতে অনেক বড় সাহায্য করে। জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। আর জামে ক্যালোর পরিমাণটা অনেক কম। আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা বাইরের খাবার ফাস্টফুড খেতে অনেক ভালোবাসি। কিন্তু এসব খাবার খেতে খেতে কখন ওজন বেড়ে যায় আমরা নিজেই জানিনা। আর শরীরের ওজন কমাতে বা ওজন ঠিক রাখতে জাম অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

যেসব মানুষ ওজন নিয়ে চিন্তিত তাদের প্রতিদিন জাম খাওয়া উচিত। যাদের ওজন অনেক বেশি বাড়ে তারা যেন প্রতিদিন চার থেকে পাঁচটি করে জাম খায় এতে তাদের ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকবে বলে আমি মনে করি। জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফাইবার। জাম অনেক মুখরোচর খাবার বটে কিন্তু জামে অনেক স্বাস্থ্যকাল উপাদান রয়েছে। যার ফলে আমাদের ক্ষুধা অনেক টা কমিয়ে দেয়।

রক্ত বিশুদ্ধ করে - জাম রক্ত বিশুদ্ধ করতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। জাম আমাদের শরীরের আয়রনের  ঘাটতি পূরণ করে। জাম আমাদের শরীরের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়। জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ভিটামিন সি যেটা রক্ত বিশুদ্ধ করে। আমাদের শরীরের টক্সিন থেকে আমাদেরকে মুক্তি দেয়। তাছাড়া জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। পটাশিয়াম সাধারণত আমাদের শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। হার্টের যাবতীয় সমস্যা থেকে আমাদেরকে মুক্তি দেয়।

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যাদের রক্ত অবিশুদ্ধ। যার ফলে তাদের শরীরে দেখা দেয় নানা রোগ। আর আপনি যদি শরীর থেকে যাবতীয় রোগ থেকে মুক্তি পেতে চান তাহলে আপনার প্রতিদিন জাম খাওয়া উচিত। আপনি যদি প্রতিদিন জাম খান তাহলে আপনার রক্ত বিশুদ্ধ হবে ও শরীর থেকে যাবতীয় রোগ থেকে আপনি মুক্তি পেতে পারেন বলে আমি মনে করি।

ত্বক উজ্জ্বল ও কোমল রাখে - ত্বক উজ্জ্বল কোমল রাখতে জাম অনেক বড় ভূমিকা রাখে। জামে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ    ,বি,সি,ডি।তাছাড়া জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে উজ্জ্বল ও কোমল রাখতে সাহায্য করে। তোকে কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি পায় প্রতিদিন জাম খেলে। ফলে ত্বক হয়ে ওঠে আরো উজ্জ্বল ও কোমল।

আবার অনেকে আছে যাদের অল্প বয়সে মুখে বরুন বা কালো দাগ। এতে আমাদের মুখ বিশ্রী হয়ে যায়। আর মুখের ব্রণ ও কালো দাগ দূর করতে জাম অনেক বড় ভূমিকা রাখে। কারো মুখে যদি ব্রণ ও কালো দাগ বের হয় তার উচিত প্রতিদিন চার থেকে পাঁচটি করি জাম খাওয়া উচিত। এতে আপনার মুখের যাবতীয় সমস্যা দূর হয়ে যাবে। বলে আমি মনে করি।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী - ডায়াবেটিকসের নিয়ন্ত্রণ করতে জাম অনেক বড় ভূমিকা রাখে। ডায়াবেটিস হলে আমাদের অনেক সমস্যা দেখা দেয়  যেমন ঘন ঘন প্রস্রাব , গলা শুকিয়ে যাওয়া। আরে এসব সমস্যা সমাধানে জাম অনেক বড় কার্যকরী ভূমিকা রাখে। আর জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফাইবার। যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভীষণ উপকারী। জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে গ্লাইসেমিক যা ডায়াবেটিসে রোগীদের জন্য উপকারী।

ডায়াবেটিস রোগী বা বাংলাদেশে দিন দিন বেড়ে চলেছে। আর প্রত্যেকটি ডায়াবেটিস রোগী পানি স্বল্পতা রোগে ভুগছেন। আর আপনার যদি ডায়াবেটিস হয় তাহলে আপনি প্রতিদিন জাম খেতে পারেন কারণ জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও পানি। যেটা আপনার শরীরের পানি স্বল্পতা থেকে মুক্তি দিবে।

জামের পুষ্টিগুণ - 

২০০ গ্রাম জামে কি পরিমাণ পুষ্টিগঞ্জে রয়েছে চলুন তা জেনে আসি - 

  • পানি রয়েছে ৯০ গ্রাম
  • আমিষ  রয়েছে ১.২৫ গ্রাম
  •  শর্করা রয়েছে ২০.৩৫ গ্রাম
  • ফ্যাট রয়েছে ১.৩২ গ্রাম
  • আয়রন রয়েছে ১.৩৪ গ্রাম
  • ক্যালসিয়াম রয়েছে ৩৫ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস রয়েছে ৩৬ মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে ৩১ মিলিগ্রাম
  • পটাশিয়াম রয়েছে ১২০ মিলিগ্রাম
  • সোডিয়াম রয়েছে ২৯ মিলিগ্রাম
  • থায়ামিন রয়েছে ০.২৬ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি১  রয়েছে ০.০০৮ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি  রয়েছে ০.৩৫ মিলিগ্রাম
  • নিয়াসিন রয়েছে ০.৩৫ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি৩ রয়েছে ০.৫৬ মিলিগ্রাম
  • প্যানথনিক এসিড রয়েছে ০.২৫৪ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি৫  রয়েছে ০.৬৫৪ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি৬  রয়েছে ০.২৫৪ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন সি রয়েছে ২৮.৩৫ মিলিগ্রাম

জান কত টাকা কেজি - 

জাম খুবই ছোট একটি ফল কিন্তু এতে  রয়েছে পুষ্টিগুণ। জাম একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। জাম গাছ এমন একটি গাছ যেটা সব রকম মাটিতে জন্মায়। অন্যান্য ফল গাছের থেকে জাম গাছের উৎপাদন খরচ অনেক কম।গ্রীষ্মকালে গ্রাম অঞ্চলে প্রত্যেকটি বাড়িতে জামের গাছ দেখা যায়। তাছাড়া বাড়ির আশেপাশের প্রত্যেকটা দোকান বা শপিংমলে জাম কিনতে পাওয়া যায়। জাম সাধারণত ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪